০৫:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬

ঈদ ও লেংটার মেলা ঘিরে ধনাগোদা নদীর কালীপুর নৌপথে ডাকাতির শঙ্কা

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ১০:০৫:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
  • / ৫১

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মমিনুল ইসলাম:

পবিত্র ঈদুল ফিতর ও শাহ্ সোলাইমান (র.) ওরফে লেংটার মেলাকে কেন্দ্র করে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ধনাগোদা নদী কালীপুর-চর কালীপুর ট্রলারঘাটে যাত্রীর ব্যাপক সমাগম ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ধনাগোদা নদীতে ট্রলারে যাত্রী পারাপারের সময় ডাকাতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

জানা যায়, মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার অধিকাংশ মানুষ স্বল্প সময়ে ঢাকা যাতায়াতের জন্য নৌপথে ট্রলারযোগে ধনাগোদা নদী পার হয়ে কালীপুর-কালীপুরা রুট ব্যবহার করেন। এই নদী পার হতে সময় লাগে মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিট। কিন্তু এতটুকু দূরত্বের মধ্যেই প্রায় প্রতি বছর ঈদ কিংবা লেংটার মেলার সময় ডাকাতির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘাট-সংশ্লিষ্টদের তথ্য মতে, প্রতিদিন এই রুটে শতাধিক যাত্রীবাহী ট্রলারের মাধ্যমে কয়েক হাজার যাত্রী পারাপার হয়। সাধারণ সময়ে বিশেষ করে বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার দিনে-রাতে প্রায় ৩ থেকে ৪ হাজার যাত্রী এ পথে যাতায়াত করেন। ঈদের সময় সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজারে। তবে এবার ঈদের এক সপ্তাহ পরেই লেংটার মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ায় দৈনিক ১০ থেকে ১২ হাজার যাত্রীর পারাপার হতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও নৌঘাট-সংশ্লিষ্টরা।

দেওয়ানজীকান্দি এলাকার যাত্রী হাসিবুল ইসলাম বলেন, আমি নিয়মিত এই পথে মতলব উত্তর থেকে ঢাকায় যাতায়াত করি। বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরতে রাত হয়ে যায়। আমাদের ট্রলার যখন মাঝ নদীতে ছিল তখন ট্রলারটিকে লক্ষ্য করে দুই দিক থেকে কয়েকটি লেজার লাইট মারা হয়। আমাদের ট্রলারে ১০ জন যাত্রী ছিল। সবাই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলাম।

আরেক যাত্রী মোবারক হোসেন বলেন, আমি একবার এই পথে বাড়ি ফেরার সময় ডাকাতির কবলে পড়েছিলাম। এরপর থেকে রাতে এই পথে যাতায়াত করি না।

মতলব উত্তর উপজেলার সাংবাদিক মাহবুব আলম লাভলু জানান, কয়েক বছর আগে ঢাকায় থেকে বাড়ি ফেরার সময় এই পথেই ডাকাতদের কবলে পড়ে আমার কাছে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র লুটে নেয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ট্রলার চালক জানান, ডাকাতরা সাধারণত দুই দিক থেকে ট্রলার ঘিরে ফেলে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই অস্ত্র ঠেকিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা ও মালামাল লুট করে নেয়। কেউ দিতে না চাইলে মারধরও করে।

এদিকে আসন্ন ঈদ ও লেংটার মেলাকে সামনে রেখে ধনাগোদা নদীতে নিয়মিত ও জোরদার টহলের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা। তাদের দাবি, নিরাপত্তা জোরদার না হলে যেকোনো সময় আবারও ডাকাতির ঘটনা ঘটতে পারে।

মতলব উত্তর প্রেসক্লাবের সভাপতি বোরহান উদ্দিন ডালিম বলেন, বিষয়টি ইতোমধ্যে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উত্থাপন করা হয়েছে। ঈদুল ফিতর ও লেংটার মেলাকে কেন্দ্র করে কালীপুর-চর কালীপুর নৌপথে যাত্রী চলাচল কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। তাই যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ধনাগোদা নদীতে নিয়মিত নৌ টহল জোরদারের দাবি জানানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রতিবছরই এই সময়টাতে ডাকাতির আতঙ্ক তৈরি হয়। প্রশাসন যদি আগেভাগেই কার্যকর ব্যবস্থা নেয় এবং নৌ পুলিশ ও থানা পুলিশের টহল বৃদ্ধি করে, তাহলে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে বেলতলী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোজাম্মেল হক পিপিএম বলেন, ধনাগোদা নদীতে যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ঈদ ও লেংটার মেলাকে সামনে রেখে নদীপথে টহল জোরদার করা হবে। কোনো ধরনের অপরাধ দমনে নৌ পুলিশ সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ঈদ ও লেংটার মেলাকে কেন্দ্র করে মানুষের যাতায়াত বাড়বে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মোঃ রবিউল হাসান বলেন, নদীপথে ডাকাতি প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হবে। ঈদ ও মেলাকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত টহলের ব্যবস্থা করা হবে।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

সাবধান
এই পৃষ্ঠার বিষয়বস্তু কপি করতে পারবেন না

ঈদ ও লেংটার মেলা ঘিরে ধনাগোদা নদীর কালীপুর নৌপথে ডাকাতির শঙ্কা

আপডেট সময় : ১০:০৫:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মমিনুল ইসলাম:

পবিত্র ঈদুল ফিতর ও শাহ্ সোলাইমান (র.) ওরফে লেংটার মেলাকে কেন্দ্র করে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ধনাগোদা নদী কালীপুর-চর কালীপুর ট্রলারঘাটে যাত্রীর ব্যাপক সমাগম ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ধনাগোদা নদীতে ট্রলারে যাত্রী পারাপারের সময় ডাকাতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

জানা যায়, মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার অধিকাংশ মানুষ স্বল্প সময়ে ঢাকা যাতায়াতের জন্য নৌপথে ট্রলারযোগে ধনাগোদা নদী পার হয়ে কালীপুর-কালীপুরা রুট ব্যবহার করেন। এই নদী পার হতে সময় লাগে মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিট। কিন্তু এতটুকু দূরত্বের মধ্যেই প্রায় প্রতি বছর ঈদ কিংবা লেংটার মেলার সময় ডাকাতির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘাট-সংশ্লিষ্টদের তথ্য মতে, প্রতিদিন এই রুটে শতাধিক যাত্রীবাহী ট্রলারের মাধ্যমে কয়েক হাজার যাত্রী পারাপার হয়। সাধারণ সময়ে বিশেষ করে বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার দিনে-রাতে প্রায় ৩ থেকে ৪ হাজার যাত্রী এ পথে যাতায়াত করেন। ঈদের সময় সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজারে। তবে এবার ঈদের এক সপ্তাহ পরেই লেংটার মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ায় দৈনিক ১০ থেকে ১২ হাজার যাত্রীর পারাপার হতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও নৌঘাট-সংশ্লিষ্টরা।

দেওয়ানজীকান্দি এলাকার যাত্রী হাসিবুল ইসলাম বলেন, আমি নিয়মিত এই পথে মতলব উত্তর থেকে ঢাকায় যাতায়াত করি। বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরতে রাত হয়ে যায়। আমাদের ট্রলার যখন মাঝ নদীতে ছিল তখন ট্রলারটিকে লক্ষ্য করে দুই দিক থেকে কয়েকটি লেজার লাইট মারা হয়। আমাদের ট্রলারে ১০ জন যাত্রী ছিল। সবাই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলাম।

আরেক যাত্রী মোবারক হোসেন বলেন, আমি একবার এই পথে বাড়ি ফেরার সময় ডাকাতির কবলে পড়েছিলাম। এরপর থেকে রাতে এই পথে যাতায়াত করি না।

মতলব উত্তর উপজেলার সাংবাদিক মাহবুব আলম লাভলু জানান, কয়েক বছর আগে ঢাকায় থেকে বাড়ি ফেরার সময় এই পথেই ডাকাতদের কবলে পড়ে আমার কাছে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র লুটে নেয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ট্রলার চালক জানান, ডাকাতরা সাধারণত দুই দিক থেকে ট্রলার ঘিরে ফেলে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই অস্ত্র ঠেকিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা ও মালামাল লুট করে নেয়। কেউ দিতে না চাইলে মারধরও করে।

এদিকে আসন্ন ঈদ ও লেংটার মেলাকে সামনে রেখে ধনাগোদা নদীতে নিয়মিত ও জোরদার টহলের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা। তাদের দাবি, নিরাপত্তা জোরদার না হলে যেকোনো সময় আবারও ডাকাতির ঘটনা ঘটতে পারে।

মতলব উত্তর প্রেসক্লাবের সভাপতি বোরহান উদ্দিন ডালিম বলেন, বিষয়টি ইতোমধ্যে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উত্থাপন করা হয়েছে। ঈদুল ফিতর ও লেংটার মেলাকে কেন্দ্র করে কালীপুর-চর কালীপুর নৌপথে যাত্রী চলাচল কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। তাই যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ধনাগোদা নদীতে নিয়মিত নৌ টহল জোরদারের দাবি জানানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রতিবছরই এই সময়টাতে ডাকাতির আতঙ্ক তৈরি হয়। প্রশাসন যদি আগেভাগেই কার্যকর ব্যবস্থা নেয় এবং নৌ পুলিশ ও থানা পুলিশের টহল বৃদ্ধি করে, তাহলে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে বেলতলী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোজাম্মেল হক পিপিএম বলেন, ধনাগোদা নদীতে যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ঈদ ও লেংটার মেলাকে সামনে রেখে নদীপথে টহল জোরদার করা হবে। কোনো ধরনের অপরাধ দমনে নৌ পুলিশ সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ঈদ ও লেংটার মেলাকে কেন্দ্র করে মানুষের যাতায়াত বাড়বে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মোঃ রবিউল হাসান বলেন, নদীপথে ডাকাতি প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হবে। ঈদ ও মেলাকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত টহলের ব্যবস্থা করা হবে।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন