সিদিদ্ধরগঞ্জ প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় ৩৫ নম্বর আসামি মিজমিজি এলাকার বাসিন্দা আলেককে (৫০) ঘিরে স্থানীয় মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মামলায় নাম আসার পর থেকেই তিনি আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি না হয়ে, প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন মহলে জোর তদবির চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা, রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠকের অভিযোগে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন-২০০৯ (সংশোধিত ২০১৩) এর বিভিন্ন ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলার এজাহারভুক্ত অন্যতম আসামি আলেক।
আলেকের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের অভিযোগের পাহাড় দীর্ঘদিনের। এলাকাবাসীর দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তিনি এলাকায় একক আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের জমি ও বাড়িঘর জোরপূর্বক দখল, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
ধনুহাজী এলাকার বাসিন্দা শাহরিয়ার ইমন জানান, "আলেকের বিরুদ্ধে এলাকায় ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি এলাকায় একটি ত্রাসের রাজত্ব ও ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করে রেখেছিলেন।"
এছাড়াও স্থানীয়দের অভিযোগ, আলেক বিভিন্ন কৌশলে নারীদের ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ব্ল্যাকমেইল ও ফাঁদে ফেলে বিপুল অর্থ ও সম্পদ হাতিয়ে নিয়েছেন।
স্বর্ণ চোরাচালান ও বিপুল সম্পদের তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ছেলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে আলেক নেপথ্যে থেকে স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই অবৈধ আয়ের মাধ্যমে তিনি নামে-বেনামে প্রায় ২৭টি বাড়ি ও বিপুল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির মালিক হয়েছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে আত্মগোপনে থেকেও আলেক নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন গোপন মিছিল-মিটিং ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে বড় অঙ্কের অর্থ জোগান দিচ্ছেন।
এলাকাবাসীর দাবি ও পুলিশের বক্তব্য গুরুতর সব অপরাধ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলার আসামি হয়েও আলেক কীভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নাম বাদ দেওয়ার তদবির করছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা অনতিবিলম্বে এই মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, আলেকের অবৈধ সম্পদের উৎস অনুসন্ধান এবং তাকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য আলেকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি এবং তিনি কোনো সাড়া দেননি।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানান, মামলার তদন্ত কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে চলমান রয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ও সোর্স খবরের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। কেউ তদবির করলে তাকে সাথে সাথে গ্রেফতার করা হবে।
এসকে মাল্টিমিডিয়া থেকে প্রকাশিত "প্রতিদিনের নিউজ ডটকম" হেড অফিস: ৫৩/এ নয়া পল্টন এক্সটেনশন রোড ঢাকা-১২০০। মোবাইল ০১৯৩০ ১৭২ ৫২০, ০১৩১৪ ১৬৮ ৬৪৪ । আঞ্চলিক অফিস: হাজী রজ্জব আলী সুপার মার্কেট (নিচ তলা) চিটাগাংরোড, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ। Email:protidinernews24@gmail
সাবধান
এই পৃষ্ঠার বিষয়বস্তু কপি করতে পারবেন না