সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সুগন্ধ্যা হাসপাতালে ডাক্তারের ভুল সিজার করায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ফলে ওই ডাক্তারের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় নিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী রুবেল মিয়া। অভিযুক্ত ডাক্তার দিলরুবা আখতারের কর্মক্ষেত্র ও পদবী নিয়ে দেখা দিয়েছে বিভ্রান্তি।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাংরোড হালিমা শপিং টাওয়ারে সুগন্ধ্যা হাসপাতালে সপ্তাহে ৩ দিন রোগী দেখেন গাইনী বিশেষজ্ঞ ও লেপারোস্কপিক সার্জন অধ্যাপক ডাক্তার দিলরুবা আখতার (বিএমডিসি রেজি: নং-এ-২৩৬২৭)। তার তত্ত্বাবধানে চিকিংসা করছিলেন সিদ্ধিরগঞ্জ নিমাইকাশারীর রুবেল মিয়ার অন্তঃস্বত্তা স্ত্রী আয়েশা আক্তার। শারীরিক বিভিন্ন পরীক্ষা করে ২১ জুনের মধ্যে ডাক্তার দিলরুবার তত্ত্বাবধানে সুগন্ধ্যা হাসপাতালে সিজার করানোর পরামর্শ দেন। ডাক্তারের পরামর্শ মতে ২২ জুন আয়াশাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে সিজার করার জন্য ভর্তি করা হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে সিজার করে সন্তান প্রসব করা হয়। নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রসব করায় শিশুটির শারীর অবস্থা খারাপ হয়ে পড়ে। তখন ডাক্তার দিলরুবা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পরামর্শে শিশুটিকে সাইনবোর্ডে বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতালে নিয়ে যাাওযা হয়। পরে চিকিৎসাধিন অবস্থায় ২৩ জুন রাত সাড়ে ৮ টায় শিশুটির মৃত্যু হয়। তখন নবজাতক হাসপাতালের সকল পরীক্ষার রিপোর্টসহ মৃত সন্তান নিয়ে রুবেল মিয়া ও তার আত্মীয়রা রাত ১০ টায় সুগন্ধ্যা হাসপাতালে গিয়ে ভুল সময়ে সিজার করার অভিযোগ তুলেন। সগন্ধ্যা হাসপাতালটির মালিক একজন বিএনপির নেতা হওয়ায় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ আমলে না নিয়ে উল্টো তাদের উপর দোষ চাপায় সিজার করার অনুমতি দিয়েছিল কেন। পরে রাত ১২ টার দিকে মৃত শিশু নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন রুবেল মিয়া।
নবজাতক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিটি শিশু জন্মের সময় প্রায় আড়াই কেজি ওজন থাকার কথা। এ শিশুটির ওজন মাত্র দেড় কেজি। তাছাড়া বাচ্চাটির চোখ মেলেনি। কোন অবস্থাতেই বাচ্চাটিকে বাঁচানো সম্ভব ছিলনা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর মাতুয়াইল শিশু-মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্ট্রিটিউট এর পরিচালক ও বিভাগীয় প্রধান পরিচয় দিয়ে ডাক্তার দিলরুবা আখতার দীর্ঘদিন ধরে সুগন্ধ্যা হাসপাতালে প্রতি রবি ও সোমবার দুপুর ২ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টায় ও শুক্রবার সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত রোগী দেখেন। মালয়েশিয়া ও লন্ডনে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত দাবি করে এমবিবিএস ও এফসিপিএস গাইনী ডাক্তার পরিচয় দেওয়া দিলরুবা আখতার মাতুয়াইল শিশু-মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্ট্রিটিউট এর পরিচালক ও বিভাগীয় প্রধান নন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
জানতে চাইলে, ভুল সিজার করার অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে ডাক্তার দিলরুবা আখতার বলেন, গর্ভধারীর প্রথম সন্তান হয়েছে সিজারে। তাই দ্বিতীয় বার বাচ্চা প্রসবের জন্য একটু আগেই সিজার করা দরকার ছিল। অন্যতায় তার জীবনের ঝুঁকি ছিল। সিজারে বাচ্চাটি প্রসবের পর শ্বাসকষ্ঠসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। তাই তাকে নবজাতকে পাঠিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেই। তিনি মাতুয়াইল শিশু-মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্ট্রিটিউট এর পরিচালক ও বিভাগীয় প্রধান কিনা জানতে চাইলে বলেন, আগে ছিলাম, এখন নাই। তবে অধ্যাপক ও চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত রয়েছি।
ডাক্তার দিলরুবা আখতার মাতুয়াইল শিশু-মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্ট্রিটিউট হাসপাতালে কর্মরত নন বলে নিশ্চিত করেছেন সহযোগী অধ্যাপক ডাক্তার মুজিবুর রহমান।
সুগন্ধ্যা হাসপাতালের মালিক বিএনপি নেতা কবির হোসেন বলেন, অন্তঃস্বত্তা গৃহবধূর স্বামীর অনুমতি নিয়ে সিজার করানো হয়েছে। ডাক্তার জোর করে সিজার করেনি। দেশে কত শিশু জন্মের পর মারা যাচ্ছে। এ বাচ্চার অবস্থাও খারাপ ছিল।
অভিযোগ তদন্তকারী কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামীম রেজা বলেন, ডাক্তারের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ হয়েছে। তদন্ত না করে কিছু বলা যাচ্ছেনা। তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।
এসকে মাল্টিমিডিয়া থেকে প্রকাশিত "প্রতিদিনের নিউজ ডটকম" হেড অফিস: ৫৩/এ নয়া পল্টন এক্সটেনশন রোড ঢাকা-১২০০। মোবাইল ০১৯৩০ ১৭২ ৫২০, ০১৩১৪ ১৬৮ ৬৪৪ । আঞ্চলিক অফিস: হাজী রজ্জব আলী সুপার মার্কেট (নিচ তলা) চিটাগাংরোড, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ। Email:protidinernews24@gmail
সাবধান
এই পৃষ্ঠার বিষয়বস্তু কপি করতে পারবেন না