মো. জাবেদ হোসেন:
চাঁদপুরের হরিনা নৌ পুলিশ ফাঁড়ি ও সংশ্লিষ্ট ব্যারাকের করুণ ও জরাজীর্ণ অবস্থা বর্তমানে উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ নদীপথ মেঘনায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত এই নৌ ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করলেও, তাদের নিজস্ব আবাসন ব্যবস্থা এখন চরম অবহেলা ও অনিরাপদ পরিবেশে পরিণত হয়েছে।
সাম্প্রতিক সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, হরিনা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির অস্থায়ী টিন শেড ব্যারাক টি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে আছে। টিনশেডের ছাউনি সর্বত্র মরিচা ধরে ক্ষয়ে গেছে এবং বহু জায়গায় ফুটো হয়ে গেছে। বৃষ্টি হলেই ছাদ দিয়ে পানি পড়ে ভিতরের কক্ষগুলো ভিজে যায়, ফলে স্বাভাবিকভাবে ঘুমানো বা বিশ্রাম নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও প্লাস্টিক, ত্রিপল ও অস্থায়ী উপকরণ দিয়ে পানি ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়েছে, যা সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়।
ব্যারাকের অভ্যন্তরে বাঁশ, দড়ি ও কাঠের খুঁটি দিয়ে টিনের চাল কোনোভাবে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে, যা যে কোনো সময় ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করছে। বৈদ্যুতিক সংযোগ ব্যবস্থাও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ—খোলা ও ঝুলন্ত তার, অস্থায়ী সংযোগ এবং সুরক্ষাহীন লাইট ব্যবহারের কারণে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এ ব্যারাকে ইন্সপেক্টর, সাব-ইন্সপেক্টর ও অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টরসহ মোট ১৩ জন পুলিশ সদস্য বসবাস করেন। তারা প্রতিদিন মেঘনা নদীতে টহল, মাদকবিরোধী অভিযান, চোরাচালান প্রতিরোধসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। দিনভর কঠোর পরিশ্রম শেষে রাতে ফিরে এসে একটি নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক বিশ্রামের জায়গা পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তাদের সেই সুযোগ নেই।
ব্যারাকের কক্ষগুলো সংকীর্ণ ও অপর্যাপ্ত, বাতাস চলাচলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। গরমকালে অসহনীয় তাপদাহ এবং বর্ষা মৌসুমে পানি পড়ার কারণে বসবাস করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে। কাপড় শুকানো, ব্যক্তিগত জিনিসপত্র সংরক্ষণ ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজগুলোও করতে হচ্ছে সীমিত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে।
পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তারা এই সমস্যার মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল ও এলাকাবাসীরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, যারা জনগণের জানমাল রক্ষায় দিনরাত নিরলস পরিশ্রম করছেন, তাদের জন্য ন্যূনতম নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এমন ঝুঁকিপূর্ণ টিনশেড কয়েক টি রুমে পুলিশ সদস্যদের বসবাস করানো শুধু অমানবিকই নয়, এটি একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও তৈরি করছে।
তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে হরিনা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ব্যারাকটি সংস্কার অথবা নতুনভাবে নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে নিরাপদ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, টেকসই ছাউনি এবং পর্যাপ্ত বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যারা সম্মুখসারিতে থেকে কাজ করছেন, তাদের জন্য একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সকল মহল।
এসকে মাল্টিমিডিয়া থেকে প্রকাশিত "প্রতিদিনের নিউজ ডটকম" হেড অফিস: ৫৩/এ নয়া পল্টন এক্সটেনশন রোড ঢাকা-১২০০। মোবাইল ০১৯৩০ ১৭২ ৫২০, ০১৩১৪ ১৬৮ ৬৪৪ । আঞ্চলিক অফিস: হাজী রজ্জব আলী সুপার মার্কেট (নিচ তলা) চিটাগাংরোড, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ। Email:protidinernews24@gmail
সাবধান
এই পৃষ্ঠার বিষয়বস্তু কপি করতে পারবেন না