ঘরে শুলে আকাশ দেখা যায়, বেলতলী আশ্রয়ণে ভুক্তভোগীদের আর্তনাদ
- আপডেট সময় : ০৭:৩৬:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
- / ৩৬

মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:
বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতর পানি পড়ে, বিছানা ভিজে যায়। ঘরে শুলে আকাশ দেখা যায়। এভাবে কি মানুষ বাঁচতে পারে? কথাগুলো বলছিলেন বেলতলী আশ্রয়ণ প্রকল্পের চান বানু, পুষ্প রানী, রেজিয়া বেগম, চিহ্ন রানী ও রুনা বেগম ভুক্তভোগী বাসিন্দা। তাদের কণ্ঠে ছিল হতাশা, ক্ষোভ আর দীর্ঘদিনের বঞ্চনার যন্ত্রণা।
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের বেলতলী আশ্রয়ণ প্রকল্প, যেখানে থাকার কথা ছিল নিরাপদ ছাদের নিচে নতুন জীবনের স্বপ্ন, সেখানে এখন প্রতিটি দিন কাটে ভয়, কষ্ট আর অনিশ্চয়তায়।
২০০৭ সালে গৃহহীন ও ছিন্নমূল ৬০টি পরিবারের জন্য গড়ে তোলা এই প্রকল্পে সময়ের ব্যবধানে প্রায় দুই দশক পার হলেও তাদের জীবনযাত্রায় আসেনি কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন। বরং দিন দিন বাড়ছে দুর্ভোগ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ৬টি ব্যারাকে নির্মিত ঘরগুলোর অধিকাংশই জরাজীর্ণ। টিনের চালা ফুটো হয়ে পানি পড়ে, দরজা-জানালা ভাঙা, নষ্ট বেড়া সব মিলিয়ে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে আবাসনগুলো।
আশ্রয়ের প্রকল্পের রবিউল্ল্যা, হাকিম আলি জানান, ঝড়-বৃষ্টি এলেই আতঙ্কে থাকতে হয়। পলিথিন আর পুরনো কাপড় দিয়ে কোনোভাবে ছাউনি ঢেকে রাখি, কিন্তু তাতেও রক্ষা হয় না।
তাদের অভিযোগ, টিউবওয়েল নষ্ট হলে নিজেরাই টাকা তুলে মেরামত করতে হয়। টয়লেটের অবস্থাও শোচনীয়। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়, পরিবার-পরিজন ও গৃহপালিত পশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়তে হয়।
রফিক, শাহাজাহান, মিজান, হাসন তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতি বছর সাংবাদিকরা আসে, খবর করে কিন্তু আমাদের কষ্টের কোনো সমাধান হয় না। অন্য আশ্রয়ন প্রকল্পে নতুন নতুন ঘর বানানো হচ্ছে, অথচ আমরা পুরনো আশ্রয়ণে অবহেলায় পড়ে আছি।
তাদের আরো অভিযোগ, তারা বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, ভিজিএফ ও ভিজিডি কার্ডের মতো সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকেও অনেকটা বঞ্চিত। ফলে চরম দারিদ্র্য আর অনিশ্চয়তার মধ্যেই দিন কাটছে তাদের।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের সভাপতি জহির মোল্লা বলেন, সবচেয়ে বড় সমস্যা ভাঙাচোরা ঘর। অনেক ইউনিটে থাকার মতো অবস্থা নেই। বাধ্য হয়ে অনেক পরিবার আত্মীয়দের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, বেলতলী আশ্রয়ণ প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে আছে। এখানে বসবাসকারী পরিবারগুলো চরম কষ্টে দিন কাটালেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। সরকারের পক্ষ থেকে নতুন নতুন ঘর নির্মাণ করা হলেও পুরনো এই আশ্রয়ণ প্রকল্পের সংস্কারের দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে না বলে তারা অভিযোগ করেন। তাদের মতে, দ্রুত সংস্কার না করা হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, প্রকল্পটি নির্মাণের পর একবার সংস্কার করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে সরকারি বরাদ্দ না থাকায় পুনরায় সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



























