০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬

মেঘনায় জাটকা অভিযানে ৯ জেলেকে ১০ দিনের কারাদণ্ড

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০৮:১৯:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৩৫

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:

জাটকা সংরক্ষণে সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে চাঁদপুরের মতলব উত্তরের মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে ৯ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে ১০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ ) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত মেঘনা নদীর জহিরাবাদ, চর উমেদ ও আমিরাবাদ এলাকায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে এসব জেলেকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে ৩টি মাছধরা নৌকা জব্দ করা হয় এবং প্রায় ২৫ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ও একটি মশারি জাল উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। জব্দকৃত নৌকাগুলো পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাটকা আহরণের দায়ে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন মো. সুজন (২০), মো. রবিউল হোসেন (৩৮), মো. আব্বাস হোসেন (২৭), মো. রুবেল হোসেন (২৭), মো. ফেয়ার হোসেন (৪০), মো. আক্তার হোসেন (২৫), মো. ইয়াজল হোসেন (৪০), মরু হাওলাদার (৪০) ও আলী আজগর ঢালী (২৪)। তাদের মধ্যে কয়েকজন শরীয়তপুর ও ভোলা জেলার বাসিন্দা এবং বাকিরা মতলব উত্তর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার জেলে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রহমত উল্লাহ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস, মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক মো. আল-আমিন’সহ মৎস্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মতলব উত্তর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস বলেন, জাটকা আমাদের জাতীয় সম্পদ এবং ভবিষ্যৎ ইলিশ উৎপাদনের মূল ভিত্তি। সরকার নির্ধারিত সময়ের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। কোনো জেলে আইন অমান্য করে জাটকা আহরণে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি জেলেদের সচেতন করতে নিয়মিত উঠান বৈঠক ও প্রচারণা চালানো হচ্ছে। জাটকা রক্ষা করতে পারলেই ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) রহমত উল্লাহ বলেন, সরকার ঘোষিত জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জাটকা নিধন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এটি দণ্ডনীয় অপরাধ। যারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছ শিকার করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইলিশ সম্পদ রক্ষায় এই অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

 


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

সাবধান
এই পৃষ্ঠার বিষয়বস্তু কপি করতে পারবেন না

মেঘনায় জাটকা অভিযানে ৯ জেলেকে ১০ দিনের কারাদণ্ড

আপডেট সময় : ০৮:১৯:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:

জাটকা সংরক্ষণে সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে চাঁদপুরের মতলব উত্তরের মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে ৯ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে ১০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ ) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত মেঘনা নদীর জহিরাবাদ, চর উমেদ ও আমিরাবাদ এলাকায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে এসব জেলেকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে ৩টি মাছধরা নৌকা জব্দ করা হয় এবং প্রায় ২৫ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ও একটি মশারি জাল উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। জব্দকৃত নৌকাগুলো পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাটকা আহরণের দায়ে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন মো. সুজন (২০), মো. রবিউল হোসেন (৩৮), মো. আব্বাস হোসেন (২৭), মো. রুবেল হোসেন (২৭), মো. ফেয়ার হোসেন (৪০), মো. আক্তার হোসেন (২৫), মো. ইয়াজল হোসেন (৪০), মরু হাওলাদার (৪০) ও আলী আজগর ঢালী (২৪)। তাদের মধ্যে কয়েকজন শরীয়তপুর ও ভোলা জেলার বাসিন্দা এবং বাকিরা মতলব উত্তর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার জেলে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রহমত উল্লাহ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস, মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক মো. আল-আমিন’সহ মৎস্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মতলব উত্তর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস বলেন, জাটকা আমাদের জাতীয় সম্পদ এবং ভবিষ্যৎ ইলিশ উৎপাদনের মূল ভিত্তি। সরকার নির্ধারিত সময়ের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। কোনো জেলে আইন অমান্য করে জাটকা আহরণে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি জেলেদের সচেতন করতে নিয়মিত উঠান বৈঠক ও প্রচারণা চালানো হচ্ছে। জাটকা রক্ষা করতে পারলেই ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) রহমত উল্লাহ বলেন, সরকার ঘোষিত জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জাটকা নিধন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এটি দণ্ডনীয় অপরাধ। যারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছ শিকার করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইলিশ সম্পদ রক্ষায় এই অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

 


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন