০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬

সিদ্ধিরগঞ্জে জনতার হাতে অবরুদ্ধ বিতর্কিত পুলিশ সদস্য জহিরুল ইসলাম

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০১:৫৫:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
  • / ১৮৫

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি:

আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে ঘুষ নিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের সাবেক এ.এস.আই জহিরুল ইসলাম।

ঘটনা জানাজানি হলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বেকায়দায় পড়েন সেই বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ হলে ধাপে ধাপে তিনি সেই টাকা ফেরত দিচ্ছিলেন ভুক্তভোগীকে।

এদিকে গতকাল সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে সেই পুলিশ কর্মকর্তা আবারও সিদ্ধিরগঞ্জের চৌধুরীবাড়ী বাজারে এসে ভুক্তভোগীকে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। পরে স্থানীয় জনতা ওই পুলিশ কর্মকর্তা (এ.এস.আই) জহিরুল ইসলামকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরবর্তীতে থানার হস্তক্ষেপে তিনি উদ্ধার হন বলে জানা যায়।

অবরুদ্ধ হওয়া পুলিশ কর্মকর্তা (এ.এস.আই) জহিরুল ইসলাম বর্তমানে ফতুল্লা মডেল থানায় কর্মরত রয়েছেন। তিনি ইতিপূর্বে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় কর্মরত থাকাকালীন ঘুষ আদায় করেছেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ.এস.আই জহিরুল ইসলাম সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় কর্মরত থাকাকালে গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগী ইসহাক মিয়ার কাছ থেকে নগদ ১ লাখ টাকা এবং ৩২ হাজার টাকার একটি মোবাইল ফোন ঘুষ হিসেবে নেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে (হেডকোয়ার্টার্সে) অভিযোগ করা হলে তিনি ভুক্তভোগীকে টাকা ফেরত দিচ্ছিলেন এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন।

এদিকে ভুক্তভোগী ইসহাক মিয়ার ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, গত ৩ নভেম্বর পুলিশ কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম আমাদের বাসায় এসে আমার বাবাকে আওয়ামী লীগ নেতা দাবি করে পাঁচ-ছয়টি মামলার ভয় দেখিয়ে জিম্মি করেন। সেদিন তিনি আমাদের ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সঙ্গে আমার বাবার থাকা ছবি দেখিয়ে গ্রেফতারের ভয় দেখান এবং গ্রেপ্তার এড়াতে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করেন। তখন আমরা মামলার ভয়ে নিরুপায় হয়ে অনেক দর-কষাকষির মাধ্যমে বাধ্য হয়ে তাঁকে নগদ ১ লাখ টাকা দেই। দাবি করা টাকা নেওয়ার একপর্যায়ে তিনি একটি মোবাইল ফোনও দাবি করেন এবং তাঁর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ৫ নভেম্বর তাঁকে ৩২ হাজার টাকায় একটি মোবাইল ফোন কিনে দেই।

তিনি আরও বলেন, এই ঘটনা নিয়ে পরে পুলিশ সদর দপ্তরে অভিযোগ দিলে তদন্ত কর্মকর্তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং আমরা বিস্তারিত উপস্থাপন করি। এরপরই জহিরুল ইসলাম আমাদের সঙ্গে কয়েক দফায় দেখা করে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন। তিনি দুই দফায় আমাদেরকে ৯০ হাজার টাকা ফেরতও দেন। হঠাৎ আজ এসে বাকি টাকা ফেরতসহ প্রয়োজনে বাড়তি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন এবং আমাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি মিথ্যা বলে উপস্থাপন করার প্রস্তাব করেন। তাঁর এমন প্রস্তাবকে আমরা প্রত্যাখ্যান করলে আমাদের ওপর চড়াও হয়ে হুমকি দেন। এরপর একপর্যায়ে স্থানীয় বাসিন্দারা এসে ঘটনা সম্পর্কে শুনে তাঁকে অবরুদ্ধ করেন।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত এএসআই জহিরুল ইসলামকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ আবদুল বারিক বলেন, ঘুষের বিষয়টি আমার জানা নেই। গতকাল ফতুল্লার এক এ.এস.আইয়ের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঝামেলা হলে আমাদের থানার উপ-পরিদর্শক (এস.আই) মাসুম বিল্লাহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয়ের সঙ্গে বসে ওই কর্মকর্তাকে নিয়ে বেরিয়ে আসেন। জহিরুল ইসলাম সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় থাকা অবস্থায় আমি ছিলাম না এবং ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই।

এদিকে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ সার্কেল) মেহেদী ইসলাম বলেন, হেডকোয়ার্টার্স থেকে জহিরুল ইসলামের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব আমার কাছে এসেছে। তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তদন্ত চলমান আছে। তবে গতকাল অবরুদ্ধের বিষয়টি আমার জানা নেই। হয়তো তিনি ভুক্তভোগী পরিবারকে ম্যানেজ করতে গেছেন।##

 


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

সাবধান
এই পৃষ্ঠার বিষয়বস্তু কপি করতে পারবেন না

সিদ্ধিরগঞ্জে জনতার হাতে অবরুদ্ধ বিতর্কিত পুলিশ সদস্য জহিরুল ইসলাম

আপডেট সময় : ০১:৫৫:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি:

আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে ঘুষ নিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের সাবেক এ.এস.আই জহিরুল ইসলাম।

ঘটনা জানাজানি হলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বেকায়দায় পড়েন সেই বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ হলে ধাপে ধাপে তিনি সেই টাকা ফেরত দিচ্ছিলেন ভুক্তভোগীকে।

এদিকে গতকাল সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে সেই পুলিশ কর্মকর্তা আবারও সিদ্ধিরগঞ্জের চৌধুরীবাড়ী বাজারে এসে ভুক্তভোগীকে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। পরে স্থানীয় জনতা ওই পুলিশ কর্মকর্তা (এ.এস.আই) জহিরুল ইসলামকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরবর্তীতে থানার হস্তক্ষেপে তিনি উদ্ধার হন বলে জানা যায়।

অবরুদ্ধ হওয়া পুলিশ কর্মকর্তা (এ.এস.আই) জহিরুল ইসলাম বর্তমানে ফতুল্লা মডেল থানায় কর্মরত রয়েছেন। তিনি ইতিপূর্বে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় কর্মরত থাকাকালীন ঘুষ আদায় করেছেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ.এস.আই জহিরুল ইসলাম সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় কর্মরত থাকাকালে গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগী ইসহাক মিয়ার কাছ থেকে নগদ ১ লাখ টাকা এবং ৩২ হাজার টাকার একটি মোবাইল ফোন ঘুষ হিসেবে নেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে (হেডকোয়ার্টার্সে) অভিযোগ করা হলে তিনি ভুক্তভোগীকে টাকা ফেরত দিচ্ছিলেন এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন।

এদিকে ভুক্তভোগী ইসহাক মিয়ার ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, গত ৩ নভেম্বর পুলিশ কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম আমাদের বাসায় এসে আমার বাবাকে আওয়ামী লীগ নেতা দাবি করে পাঁচ-ছয়টি মামলার ভয় দেখিয়ে জিম্মি করেন। সেদিন তিনি আমাদের ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সঙ্গে আমার বাবার থাকা ছবি দেখিয়ে গ্রেফতারের ভয় দেখান এবং গ্রেপ্তার এড়াতে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করেন। তখন আমরা মামলার ভয়ে নিরুপায় হয়ে অনেক দর-কষাকষির মাধ্যমে বাধ্য হয়ে তাঁকে নগদ ১ লাখ টাকা দেই। দাবি করা টাকা নেওয়ার একপর্যায়ে তিনি একটি মোবাইল ফোনও দাবি করেন এবং তাঁর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ৫ নভেম্বর তাঁকে ৩২ হাজার টাকায় একটি মোবাইল ফোন কিনে দেই।

তিনি আরও বলেন, এই ঘটনা নিয়ে পরে পুলিশ সদর দপ্তরে অভিযোগ দিলে তদন্ত কর্মকর্তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং আমরা বিস্তারিত উপস্থাপন করি। এরপরই জহিরুল ইসলাম আমাদের সঙ্গে কয়েক দফায় দেখা করে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন। তিনি দুই দফায় আমাদেরকে ৯০ হাজার টাকা ফেরতও দেন। হঠাৎ আজ এসে বাকি টাকা ফেরতসহ প্রয়োজনে বাড়তি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন এবং আমাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি মিথ্যা বলে উপস্থাপন করার প্রস্তাব করেন। তাঁর এমন প্রস্তাবকে আমরা প্রত্যাখ্যান করলে আমাদের ওপর চড়াও হয়ে হুমকি দেন। এরপর একপর্যায়ে স্থানীয় বাসিন্দারা এসে ঘটনা সম্পর্কে শুনে তাঁকে অবরুদ্ধ করেন।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত এএসআই জহিরুল ইসলামকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ আবদুল বারিক বলেন, ঘুষের বিষয়টি আমার জানা নেই। গতকাল ফতুল্লার এক এ.এস.আইয়ের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঝামেলা হলে আমাদের থানার উপ-পরিদর্শক (এস.আই) মাসুম বিল্লাহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয়ের সঙ্গে বসে ওই কর্মকর্তাকে নিয়ে বেরিয়ে আসেন। জহিরুল ইসলাম সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় থাকা অবস্থায় আমি ছিলাম না এবং ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই।

এদিকে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ সার্কেল) মেহেদী ইসলাম বলেন, হেডকোয়ার্টার্স থেকে জহিরুল ইসলামের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব আমার কাছে এসেছে। তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তদন্ত চলমান আছে। তবে গতকাল অবরুদ্ধের বিষয়টি আমার জানা নেই। হয়তো তিনি ভুক্তভোগী পরিবারকে ম্যানেজ করতে গেছেন।##

 


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন