নির্বাচনী সংস্কার ও জবাবদিহির অঙ্গীকারে জনতার দ্বারস্থ বিআরপি প্রার্থী
- আপডেট সময় : ০৬:২৮:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৫৩

মতলব উত্তর (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:
চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ) আসনে বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি) মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. ফয়জুন্নুর আখন রাসেল নির্বাচনী ব্যয়ে জনসম্পৃক্ততা ও স্বচ্ছ অর্থায়নের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন। নির্বাচনি সংস্কৃতি পরিবর্তন, জবাবদিহিমূলক রাজনীতি এবং প্রভাবমুক্ত রাজনৈতিক চর্চার অঙ্গীকার তুলে ধরে তিনি সমর্থকদের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) নিজের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক আইডি ও ‘জনতার ফয়জুন্নুর’ নামের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই আহ্বান জানান।
ফেসবুক পোস্টে ফয়জুন্নুর আখন রাসেল বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-২ আসন থেকে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি নির্বাচন করছেন। এই পথচলায় ক্ষমতা বা প্রভাব নয়, বরং মানুষের আস্থা ও নৈতিক রাজনীতিকেই তিনি সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে দেখছেন।
তিনি বলেন, আমি এমন রাজনীতিতে বিশ্বাস করি, যেখানে ক্ষমতার চেয়ে মানুষ বড়, স্বার্থের চেয়ে সততা বড় এবং প্রভাবের চেয়ে ইনসাফ বড়। তার মতে, উন্নয়ন মানে কেবল অবকাঠামো নয়; উন্নয়ন মানে ন্যায়বিচারভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও জবাবদিহিমূলক সমাজ গড়ে তোলা।
ফয়জুন্নুর আখন রাসেল স্পষ্টভাবে জানান, তার রাজনৈতিক কার্যক্রম কোনো ব্যক্তি, ব্যবসায়ী বা প্রভাবশালী গোষ্ঠীর অর্থায়নে পরিচালিত হবে না। বড় অঙ্কের অর্থ প্রায়ই বড় শর্ত নিয়ে আসে, যা শেষ পর্যন্ত জনগণের স্বার্থের বিপরীতে যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আমি নেতা হতে চাই না, আমি প্রতিনিধি হতে চাই, এই অবস্থান থেকেই জনগণের কাছ থেকেই সহযোগিতা চাওয়ার কথা উল্লেখ করেন বিআরপি প্রার্থী। তার ভাষায়, সাধারণ মানুষের ছোট ছোট অবদান শুধু নির্বাচনী ব্যয় মেটানোর উপায় নয়; বরং এটি একটি নৈতিক বার্তা, যেখানে মানুষ নিজেই নিজের প্রতিনিধি গড়ে তোলে।
পোস্টে তিনি জানান, চাঁদপুর-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১ হাজার ৬৯ জন। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সীমার মধ্যে মাথাপিছু ১০ টাকা হিসেবে সর্বোচ্চ ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৫০ লাখ টাকা। তিনি অঙ্গীকার করেন, নগদ, বিকাশ কিংবা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রাপ্ত প্রতিটি টাকার পূর্ণ হিসাব এবং ব্যয়ের খাত নিয়মিতভাবে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।
এ ধরনের জনভিত্তিক অর্থসংগ্রহের উদ্যোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর আগে ঢাকা-৯ আসনে এনসিপির প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা এবং বরিশাল-৩ আসনে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের নেওয়া অনুরূপ উদ্যোগ আলোচনায় আসে। সেই ধারাবাহিকতায় ফয়জুন্নুর আখন রাসেলের এই পদক্ষেপকে নির্বাচনী রাজনীতিতে ভিন্নধারার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন অনেকে।
এদিকে চাঁদপুর-২ আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে ১০ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।
বৈধ প্রার্থীরা হলেন বিএনপির ড. মো. জালাল উদ্দিন, জামায়াতের ডা. আবদুল মুবিন, এলডিপির বিল্লাল হোসেন মিয়াজি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মানছুর আহমেদ সাকি, বিআরপির ফয়জুন্নুর আখন রাসেল, জাতীয় পার্টির মো. এমরান হোসেন মিয়া, গণঅধিকার পরিষদের গোলাম হোসেন, নাগরিক ঐক্যের এনামুল হক, আমার বাংলাদেশ পার্টির রাশেদা আক্তার এবং লেবার পার্টির নাসিমা আক্তার।
জনসম্পৃক্ততা ও স্বচ্ছ অর্থায়নের এই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে কতটা প্রভাব ফেলবে তা নিয়েই এখন চাঁদপুর-২ আসনের ভোটার ও রাজনৈতিক মহলে চলছে আলোচনা।



























