মতলব উত্তরে আলু বপনে ব্যস্ত কৃষকরা, ভালো দামের আশায় অপেক্ষা
- আপডেট সময় : ০৭:৫৩:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ৮৮

মমিনুল ইসলাম:
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শুরু হয়েছে আগাম জাতের আলু চাষ। মৌসুমের শুরুতেই কৃষকরা মাঠে নেমেছেন আলু বীজ বপনে। যদিও বর্তমান বাজারে আলুর দাম তুলনামূলক কম, তারপরও আগাম উৎপাদিত আলু বাজারে উঠলে ভালো দাম পাওয়া যাবে এমন আশায় মাঠে কাজ করছেন কৃষকরা।
মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৫৯৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলার উঁচু জমি, নদীর তীরবর্তী এলাকা ও চরাঞ্চলে শুরু হয়েছে আগাম জাতের আলুর বীজ বপন। ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে আলু রোপণ কার্যক্রম।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, কৃষকদের উচ্চফলন নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষণ, বীজ সংগ্রহে পরামর্শ, সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ, কীটনাশক ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, মতলব উত্তরের অধিকাংশ জমি উঁচু হওয়ায় এখানে আগাম জাতের আলু চাষ সম্ভাবনাময়। শীতের শুরুতেই বীজ বপন করলে দুই মাসের মধ্যে আলু বাজারজাত করা সম্ভব, ফলে দাম পাওয়া যায় তুলনামূলক ভালো।
মাঠজুড়ে এখন কৃষকদের শ্রম, স্বপ্ন আর অপেক্ষা শীত শেষে ঘরে উঠবে লাভের ফসল, এমনটাই আশা মতলব উত্তরের কৃষকদের।
বোরচর এলাকার কৃষক আমান উল্ল্যা (৩৫) বলেন, এ বছর আমি ১২ একর ২৫ শতাংশ জমিতে আলু লাগিয়েছি। এই এলাকার মাটি আলু চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় কৃষকরা অন্য ফসলের চেয়ে আলুতে বেশি ঝুঁকে পড়েছেন। গত বছর অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ক্ষতি হয়েছিল, তবে এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো লাভের আশা করছি।
চরাঞ্চলের কৃষক আলী আজ্জম মাষ্টার, আলমগীর বেপারী ও ওয়াসিম বেপারী জানান, আগাম জাতের আলুর চাষে শ্রম বেশি হলেও বাজারে প্রথমে বিক্রি করতে পারলেই লাভ হয় বেশি। তাই এখন সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে মাঠে কাজ করছি।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, অর্থকরী ফসল হিসেবে আলু চাষ এই এলাকায় অত্যন্ত লাভজনক। আলু চাষে অধিকাংশ কৃষকই এখন স্বাবলম্বী। উৎপাদন বৃদ্ধি এবং রোগবালাই ব্যবস্থাপনায় আমরা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পাশে আছি। তিনি আরও বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আলুর বাম্পার উৎপাদন হবে বলে আমরা আশা করছি।


























