নিজস্ব প্রতিনিধি:
প্রশিক্ষণে অংশ না নিয়েও ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি প্রশিক্ষণ ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে চাঁদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আবু তাহেরের বিরুদ্ধে। এর আগেও বিভিন্ন জাতীয় কর্মসূচিতে তার অনুপস্থিতি এবং সরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার নিয়ে কৃষি বিভাগে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৭ আগস্ট চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার সাচার এলাকায় কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাতের আওতায় বিনামূল্যে মিনি কোল্ড স্টোরেজ উদ্বোধন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। কিন্তু আমন্ত্রিত হয়েও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আবু তাহের ও জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার সাইফুল হাসান আলামিন। অভিযোগ রয়েছে, অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থেকেও তারা নিয়মিত প্রশিক্ষণ ভাতা উত্তোলন করেছেন।
এর আগে গত ১৬ মে চাঁদপুরে বিশ্বখাল খনন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকলেও ওই প্রোগ্রামে তিনি উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, উপজেলাভিত্তিক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে অংশ না নিয়েই ভাতা তুলে নেওয়ার প্রবণতা রয়েছে এই কর্মকর্তার। এছাড়া জেলার নির্ধারিত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটিতে এক বছরের বেশি সময় ধরে তিনি ব্যক্তিগতভাবে বসবাস করছেন। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে তার এই অবস্থানের কারণে একদিকে যেমন নিয়মিত প্রশিক্ষণের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে সরকার নির্ধারিত রাজস্ব হারাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি অব্যবহৃত একটি সরকারি গাড়ির যন্ত্রাংশ বিক্রির গুঞ্জন উঠলে তোপের মুখে পড়ে তা আবার ফেরত আনার ঘটনাও ঘটে। যাহা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত চাঁদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবু তাহেরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওইদিন শুক্রবার ছিল বিধায় কচুয়ার প্রশিক্ষণে উপস্থিত হতে পারিনি, তবে ভাতা নিয়েছি। তবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বসবাস করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আজিজুর রহমান মুঠোফোনে জানান, প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ না করে ভাতা তোলার কোনো বৈধতা নেই। এটি সম্পূর্ণ সরকারি বিধিমালা ও আইনের পরিপন্থী। এছাড়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বসবাসের বিষয়ে তিনি বলেন, ডরমিটরি হিসেবে ব্যবহার করা হলে নির্ধারিত নিয়মে ভাড়া পরিশোধ করতে হবে।
তবে অব্যবহৃত একটি সরকারি গাড়ির যন্ত্রাংশ বিক্রি করেন এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, তিনি তা ফিরিয়ে এনেছেন এবং মিটমাট হয়েছে। কিভাবে মিটমাট হয়েছে জানতে চাইলে প্রশ্নের উত্তর পর্বে তা তিনি এড়িয়ে যান।
দায়িত্বশীল পদে থেকে এ ধরনের অনিয়মের ঘটনায় স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। আর কতো অপরাধ করলে কর্মকর্তা আবু তাহের এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে!
এসকে মাল্টিমিডিয়া থেকে প্রকাশিত "প্রতিদিনের নিউজ ডটকম" হেড অফিস: ৫৩/এ নয়া পল্টন এক্সটেনশন রোড ঢাকা-১২০০। মোবাইল ০১৯৩০ ১৭২ ৫২০, ০১৩১৪ ১৬৮ ৬৪৪ । আঞ্চলিক অফিস: হাজী রজ্জব আলী সুপার মার্কেট (নিচ তলা) চিটাগাংরোড, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ। Email:protidinernews24@gmail